যৌনাঙ্গে অস্বস্তিকর চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হলে কি করবেন
মহিলাদের যৌনাঙ্গে চুলকানি ও সাদা স্রাব নিঃসরণ হওয়ার সমস্যাটা ভীষণ ঝামেলাকর। এ অবস্থার জন্য দায়ী হলো ছত্রাক। একটু সুযোগ পেলেই ভেজা স্থানগুলোতে বাসা বাঁধে। যোনিতে যে ছত্রাকটি আধিপত্য বিস্তার করে তার নাম ক্যানডিডা এলবিকান।
এরা দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে মেরে ফেলে যোনির কোষসমূহ। ফলে সৃষ্টি হয় যৌনাঙ্গে অস্বস্তিকর চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া। ছত্রাক সংক্রমণে এক ধরনের সাদা রস নিঃসৃত হয়। যার ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠে মেয়েদের জীবন।
ছত্রাক সংক্রমণের কারণ:
-ইস্ট্রোজেনের উচ্চমাত্রা:-
মেয়েদের মাসিক চক্রের প্রথম ১৪ দিনে কিংবা গর্ভধারণকালে শরীরের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই ইস্ট্রোজেন শরীরের কোষসমূহের অভ্যন্তরে শ্বেতসারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা ছত্রাকের জন্য আশীর্বাদ। মেয়েদের শরীরের ইস্ট্রোজেন প্রতিস্থাপন থেরাপি কিংবা উচ্চ ইস্ট্রোজেন সম্পন্ন গর্ভনিরোধক বড়ি ব্যাপকভাবে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটায়।-দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:-
কোনো মহিলার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে ছত্রাকের সংক্রমণ তিনগুণ বেড়ে যায়। যেসব মহিলা ডায়েট কন্ট্রোল করেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করেন না, কিংবা বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে।-এন্টিবায়োটিক:-
কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া যা যোনিতে অবস্থান করে, ছত্রাকের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ছত্রাককে দমিয়ে রাখে। কিন্তু এন্টিবায়োটিক যোনির সেই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে অক্ষম করে ফেলে। ছত্রাক ব্যাপক হারে যোনিতে বংশবিস্তার করার সুযোগ পায়।
-ভেজা কাপড়-চোপড়:-
কী ব্যবস্থা নেবেন
যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটে গেলে প্রচুর চুলকানি হবে, কিন্তু যতদূর সম্ভব সহ্য করে যাবেন, জায়গাটিতে নখ দিয়ে আঁচড় দিবেন না। ক্লোট্রাইমাজোল কিংবা মিকোনাজেলে নাইট্রেট নামক ছত্রাকবিরোধী মলম ব্যবহার করতে হবে। চুলকানির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য খেতে হবে এন্টিহিস্টামিন ওষুধ। সর্বদা স্থানটি শুকনো রাখবেন।
আপনার ডায়াবেটিস কিংবা যৌনবাহিত রোগ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। কোনো কোনো ছত্রাকবিরোধী ওষুধ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং তা ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। আপনার যাতে পরবর্তী সময়ে ছত্রাক সংক্রমণ না ঘটতে পারে তার অন্য
নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিনঃ-
-দধি খান:-
প্রত্যহ এক কাপ দধি খেলে আপনার ছত্রাকে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যাবে। দধিতে থাকে ল্যাকটোব্যাসিলাস এসিডোফাইলাস নামক ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাককে নিধন করে।-ভিটামিন খান:-
এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি যে কত ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেল ছত্রাকের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে পুষ্টিহীনতা এবং বিশেষ করে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল ছত্রাকের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে পুষ্টিহীনতা এবং বিশেষ করে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ভিটামিন-ই-এর ঘাটতি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। যদি আপনার কোনো ধরনের সংক্রমণের প্রবণতা থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভিটামিন খেতে হবে।
-সুতির অন্তর্বাস পরুন:-
-প্রয়োজনে প্রতিরোধ মাত্রায় ছত্রাকবিরোধী ওষুধ গ্রহণ করুন:-


No comments