কম্পিউটার ভাইরাস কি এবং এর প্রকারভেদ কি কি? কীভাবে এর হাত থেকে বাঁচবেন?
বন্ধুরা আজ আমরা জানাবো কম্পিউটার ভাইরাস কি, কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ ও এর লক্ষন গুলি কি কি।
- কম্পিউটার ভাইরাস কি
কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম। ইন্টারনেট, পেনড্রাইভ বা অন্য কোনো মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং গোপনে বিস্তার লাভ করে সাথেই কম্পিউটারের জরুরি তথ্য নষ্ট করে,কম্পিউটারকে স্লো বা বিকল করে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট করে বা আরও অনেক ক্ষতিসাধন করে থাকে।ভাইরাস হল এমন একটি প্রোগ্রাম যা নিজেই নিজের কপি করতে পারে আর সেই কারনেই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।ভাইরাস অর্থাৎ VIRUS শব্দের পুরো নাম Vital Information Resources Under Seize যার অর্থ জরুরী তথ্যের উৎসগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।Elk Cloner হল প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস যা পার্সোনাল কম্পিউটারের ক্ষতি সাধনে সক্ষম হয় এবং ভাইরাসটি রিক নামের এক 14 বছরের ছেলে বানিয়েছিল তার বন্ধুদের ম্যাকিংটোশ কম্পিউটারের সাথে মজা করার উদ্দেশ্যে।
ভাইরাসের প্রকারভেদ :-
কম্পিউটার ভাইরাসের নাম:
1. ফাইল বা প্রোগ্রাম ভাইরাস (File or Program Virus) :- এই ভাইরাসগুলি কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন সিস্টেম ফাইলের ক্ষতিসাধন করে। যেমন উইন্ডোজ এর .exe ফাইল।
2. বুট ভাইরাস (Boot Virus) :- এই ধরনের ভাইরাসগুলি হার্ড ডিস্কের বুট সেক্টরকে আক্রমন করে এবং সেখানে প্রবেশের পর সেখান থেকে মাস্টার বুট প্রোগ্রামটি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে কম্পিউটার চালু বা বুট হতে বাধা দেয়।এবং প্রথম বুট সেক্টর ভাইরাসের নাম হল Brain
3. ফ্যাট ভাইরাস ( FAT Virus) :- এই ধরনের ভাইরাসগুলি ডিস্ক থেকে FAT অর্থাৎ File Allocation Table কে আক্রান্ত করে ডিরেক্টরির ভেতরে কোনো ফাইলের তথ্য বা ফাইল ডিলিট করে দেয়।
4. রেসিডেন্ট ভাইরাস(Resident Virus) :- এই ধরনের ভাইরাসগুলি কম্পিউটারের Read Only Memory বা সংক্ষেপে RAM এ কিছুটা জায়গা দখল করে লুকিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন ফাইল করাপ্ট করে, সিস্টেমের কাজে বাধা দেয়,বিভিন্ন সফটওয়ারের কাজে বাধা দেয়।
5. ম্যাক্রো ভাইরাস (Macro Virus) :- এই ভাইরাসগুলি ম্যাক্র ল্যাংগুয়েজ দিয়ে বানানো হয় এবং এই ধরনের ভাইরাস সৃষ্টি করা তুলনামূলক অন্যগুলির চেয়ে সোজা। এরা Microsoft Word, Microsoft Excel এই জাতীয় Software গুলিতে হামলা চালায় এবং ছড়ায়।
ভাইরাস যে ভাবে ছড়ায় :-
1.বন্ধু বা অন্যদের পেনড্রাইভ,CD,DVD,হার্ডডিস্ক থেকে বিভিন্ন তথ্য ট্রান্সফার করার সময়।
2. ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোড করার সময় বিশেষত ফ্রি মুভিস বা Crack software ডাউনলোড করার সময়।
3.অপরিচিত কারো পাঠানো মেইল এর এটাচমেন্ট থেকে
কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন :-
কোনো কারন ছাড়াই কম্পিউটার মাঝে মাঝেই রিস্টার্ট নেওয়া,কম্পিউটারের প্রসেসিং স্পিড কমে যাওয়া বা মাঝে মাঝেই হ্যাং করা,কম্পিউটারের বুটিং প্রসেসে সময় লাগা অর্থাৎ কম্পিউটার চালু হতে সময় লাগা, উল্টো পালটা বিভিন্ন সফটওয়ার যেমন নোটপ্যাড ওপেন করা।


No comments